“বাবা তুমি এয়েছো !” “কাকা তুমি এয়েছো !” “শাশুড়ি তুমি এয়েছো!’ “শ্বশুর তুমি এয়েছো!” !

Spread the love

“বাবা তুমি এয়েছো !” “কাকা তুমি এয়েছো !” “শাশুড়ি তুমি এয়েছো!’ “শ্বশুর তুমি এয়েছো!” !

“বাবা তুমি এয়েছো !” “কাকা তুমি এয়েছো !” “শাশুড়ি তুমি এয়েছো!’ “শ্বশুর তুমি এয়েছো!” !

আজ বেশ কয়েকবছর পর এভাবে লিখতে বসলাম তাও যা আমার চার চোখের বিষ , ভয় পেয়ো না  আসলে আমি চশমা পরি ! সেই বিষয়টিকে নিয়ে । হুম বাবা আমি বাংলা সিরিয়ালের কথা বলছি ! তো গল্প হল এখন ফেসবুক খুললেই “বাবা তুমি এয়েছো !” “কাকা তুমি এয়েছো !” “শাশুড়ি তুমি এয়েছো!’ “শ্বশুর তুমি এয়েছো!” ! পৃথিবীতে আর কোন পোস্ট নেই । শুধু তুমি এয়েছো ! মন করছে ফেসবুকের নামটা চেঞ্জ করে “তুমি এয়েছো” করে দি !

আর এসব শুরু হয়েছে জি-বাংলার একটি সিরিয়াল “রানি রাসমণী” কে কেন্দ্র করে ।রানী রাসমণীর চরিত্রে অভিনয় করেছে সতেরো বছরের দ্বিতিপ্রিয়া রায় । আমি অবশ্য এসব জানতাম না ! আজই জানলাম । বলাবাহুল্য চাপে পরে জানতে বাধ্য হলাম । তো তাকে নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে ট্রোলের সাগর ।

আর এখান থেকেই তৈরি হয়েছে তিনটি দল ! একদল মানুষের চৌদ্দ গুষ্টি ডেকে এনে পোস্ট তৈরি করছে তুমি এয়েছো । আর একদল সেগুলিকে মনের আনন্দে শেয়ার করে চলেছে । আর তৃতীয় দলটি সেই মেয়েটিকে নিয়ে ঘটে চলা ট্রোলের বিরোধিতা করে চলেছে । কাউকে ছোট করে বড় হওয়া এটাই মানুষের বৈশিষ্ট্য । আজ বাংলা ট্রোল সংস্কৃতিতে আক্রান্ত । আমি নিজেও এটা করি । এতে আনন্দ পায় । কিছুটা অন্যরাও পাই । আবার কখনও কখনও গালিও পায় ! নো চাপ , রেখে যা ছাপ !

মেয়েটিকে নিয়ে তৈরি হওয়া পোস্টগুলিতে কখনো কখনো কদর্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে । তারপরও যদি বলি মেয়েটিকে নিয়ে যা ঘটছে তা ভালোর জন্যই ঘটছে । এটা শুনে নিশ্চয়ই আমারো মা-বোন তুলিয়ে গালি দিতে ইচ্ছে করছে তাই না !মনে হচ্ছে বলতে , তোর মা-বোনের সাথে যদি এগুলো হত তখন বুঝতিস ! তাই না ! বেশ বাবা যখন এয়েছো তখন গালি নাহয় দেবে , আমি তো আর পালিয়ে যাচ্ছি না ! আগে নাহয় লেখাটি পুরোটা একটু পড়ে নাও ।

তো যাইহোক যেটা বলছিলাম মেয়েটিকে নিয়ে যা ঘটছে তা ভালোর জন্যই ঘটছে । এবার আসি কেন ? তার আগে আমি একটা প্রশ্ন করতে চাই ! আচ্ছা আপনাকে নিয়ে ট্রোল কেন হচ্ছে না ? আমাকে নিয়ে কেন হচ্ছে না ? ও আপনি তো লেখাটা পড়ছেন উত্তর দেবেন কি করে ! আমিই নাহয় বলে দি ! আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে আমাদের এখানে বাংলার জনপ্রিয় পত্র-পত্রিকার রিপোর্টারদের নিয়ে একটি সেমিনার হয়েছিল । সৌভাগ্যবশত আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম । না না বাবা ওত বড় হনু ভাবার কিছু নেই , আমি এয়েছিলাম বক্তা হিসাবে নয় শ্রোতা হিসাবে । তো সেই সেমিনারের একটি কথা আমার খুবই মনে পড়ে , একজন রিপোর্টার বলেছিলেন “খবর তখন হয়না যখন একটি কুকুর মানুষকে কামড়াই , খবর তখনই হয় যখন একটা মানুষ কুকুরকে কামড়াই” । মোদ্দা কথা হল এটাই যতক্ষণ না তুমি কিছু আলাদা করছ ততক্ষণ তোমাকে নিয়ে খবর হবে না । তাই এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় মেয়েটি নিশ্চয় কিছু আলাদা করছে তাইতো তাকে নিয়ে এত ট্রোল ।

এবার আসি মেয়েটির এতে কি ভালো হচ্ছে !  যদি বলি আপনি দুঃখ পেলে কি হবে এই ট্রোল গুলো দেখে “রানী রাসমণীর” নির্মাতারা খুবই খুশি হচ্ছেন ! আশ্চর্য হচ্ছেন তো ! কিন্তু এটাই বাস্তব ! আজকের যুগটা হল বিজ্ঞাপনের যুগ ! যার যত বিজ্ঞাপন সেই প্রোডাক্ট তত বিক্রি হয় ! বর্তমানে বিজ্ঞাপনের একটি প্রধান মাধ্যম হল এই সোশ্যাল মিডিয়া ! আমি মানুষটি যে বাংলা সিরিয়ালের নাম শুনলে তেলে-কুমড়োতে জ্বলে যাই ! ওহো ! ওটাতো তেলে-বেগুনে হবে । আসলে বেগুনের দাম একটু বেশি তো , তাই কুমড়োটাকেই জ্বালালাম  । তো সে নিজের হাজার কাজকর্ম বাদ দিয়ে একটি সিরিয়ালের নায়িকাকে নিয়ে এত বড় লেখা লিখে দিল ! ভাবতে পারছেন  সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আজ মেয়েটি কি হারে জনপ্রিয়তা পেল ! ভাবতে  পারছেন একটি পয়সা খরচা না করেও এই সিরিয়ালটির কিভাবে প্রচার ঘটল ! তাই প্রথমেই সিরিয়ালের নির্মাতারা কখনই চাইবে না এটা বন্ধ হোক ! এটা হওয়াও অস্বাভাবিক নয় যে এই ট্রোল সৃষ্টির পেছনেও হয়ত রয়েছেন সিরিয়ালের নির্মাতারাই ।  এবার আসি মেয়েটির কথাই , মেয়েটি এই একটি সিরিয়াল করেই যা জনপ্রিয়তা পেল হয়ত নিশ্চিতভাবেই তা তাকে আগামী কর্মজীবনে অনেক সাহায্য করবে ।

ট্রোলে ঘটে চলা কদর্যতার প্রশ্নটি কেন বাকি থাকে ! তাকে নিয়েও দুকথা বলে দি । প্রথমেই বলেনি এটাকে আমি সমর্থন করি না( না বললে গালিটা একটু বেশি খেতাম তাই একটি সেফসাইড বাবা ) । সঙ্গে আমি এটাও বলছি আপনি চেঁচিয়ে গলা ফাটিয়ে দিলেও এটা থামবে না । যেখানে যেখানে মেয়েটিকে নিয়ে কদর্যতা তৈরি হয়েছে সেই পোস্টগুলিতে নিশ্চিতভাবেই পেজের এডমিনরা মা-বোনের গালি খেয়েছে ! কিন্তু তারপরেও তারা এটা করে চলেছে । কারনটি হল সেই প্রচার । আপনার যতক্ষণ না সমালোচনা হবে ততক্ষন আপনার প্রচার হবে না । আর ততক্ষণ সমালোচনা হবে না , যতক্ষণ না আপনি কিছু আলাদা করছেন । নেন বাবা এতদূর যখন এয়েছেন তখন আর দাড়িয়ে কেন , আসন পেতে বসুন , বসে গালি দেওয়া শুরু করুন !

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.