DMCA.com Protection Status

করোনা ভাইরাস আসলেই কি ভয়াবহ ? নাকি বাজারি মিডিয়ার চক্রান্ত ? জানুন আসল সত্য

Spread the love
is coronavirus danger for mankind or it is a hype of media
is coronavirus danger for mankind or it is a hype of media

করোনা ভাইরাস আসলেই কি ভয়াবহ ? নাকি বাজারি মিডিয়ার চক্রান্ত ? জানুন আসল সত্য

করোনা ভাইরাস বর্তমান বিশ্বে সবথেকে মারাত্মক মহামারী । এখনও পর্যন্ত ৯০ হাজার করোনা ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত ।  অনেকে এই ভাইরাস এর আক্রমনকে মহাদেশীয় মহামারী আখ্যা দিতে চেয়েছেন । কিন্তু আদতেই এটা কতটা ভয়ানক ? নাকি বাজারি মিডিয়ার চক্রান্ত ?

আমরা আজ এই লেখার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার সত্যতা তুলে ধরব । এবং একই সাথে করোনা নিয়ে কিছু আশার কথা শোনাবো । শোনাবো কিছু ভরসার কথা । আমার এই লেখাটি সম্পুর্নরুপে অনুসরণ করেছে বাংলাদেশের এক মানুষ ডাক্তার জাকির ওনার একটি ফেসবুক ভিডিওর উপর ভিত্তি করে । আপনারা যারা এখন এই লেখা পরছেন , আন্তরিক অনুরোধ করব যতটা সম্ভব লেখাটিকে আপনার বন্ধু বান্ধব , আত্মীয় পরিজন , হোয়াটস অ্যাপ , ফেসবুক সর্বত্র শেয়ার করুন । হয়ত এই লেখার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তা কিছুটা হলেও কমবে ।

আরও পড়ুনঃ করোনা ভাইরাস মানবসভ্যতার সামনে সবচেয়ে বড় বিপদ ।। এই ভাইরাস থেকে কিভাবে মুক্ত হবে আমাদের পৃথিবী ?

নীচে আমি কতগুলি পয়েন্টে আমার বক্তব্য উল্লেখ করব । যেগুলো বাজারি মিডিয়া আপনার কাছ থেকে লুকিয়ে গেছে । তারা চায় আপনি করোনা নিয়ে আতঙ্কিত হন । টিআরপি বাড়ুক তাদের মিডিয়া চ্যানেল গুলোর । কর্মসাথী ডট কম এইসকল টিআরপি এর ধার ধারে না । সবসময় চেষ্টা করে আপনাদের সামনে সঠিক বিষয় তুলে ধরার । চলুন এবার দেখে নি করোনা ভাইরাস নিয়ে কোন বিষয়গুলো বাজারি মিডিয়া আপনার কাছ থেকে লুকিয়ে গেছে ?

১. সব বাজারি মিডিয়া গুলোতে ফলাও করে প্রকাশ করা হচ্ছে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে ৯০ হাজার মানুষ আক্রান্ত । কিন্তু তাঁরা এই কথা অত্যন্ত সন্তর্পনে লুকিয়ে যাচ্ছে যে তাদের মধ্যে ৫০ হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন । কেন এই কথা প্রকাশ করছে না ? কারন এটা করলে আপনাদের মন থেকে করোনা নিয়ে ভয় কমে যাবে । আপনারা আর তাদের চ্যানেল দেখবেন না । তাদের ভিউয়ার্স কমে যাবে ।

২. তাহলে এবার দেখা যাক এই করোনা ভাইরাস কতটা মারাত্মক । কোন একটি ভাইরাসের প্রকোপ কতটা ভয়ানক তা তার মৃত্যুহার দিয়ে দেখা যেতে পারে । এর পূর্বে যে ভাইরাসগুলি বিশ্বে মহামারীর আকার নিয়েছিল তার মৃত্যুহার এবং করোনা ভাইরাসের মৃত্যুহারের তুলনামূলক আলোচনা করি ।

দেখেনিন আসলেই কতটা ভয়ানক এই করোনা ?

ভাইরাসের নামমৃত্যুহার ( % )
EBOLA মৃত্যুহার ৫০ % । অর্থ্যাৎ প্রতি ১০০ জন ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫০ জন মারা গিয়েছিল ।
MARS মৃত্যুহার ৩০ % । অর্থ্যাৎ প্রতি ১০০ জন MARS আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৩০ জন মারা গিয়েছিল ।
SARS মৃত্যুহার ১০ % । অর্থ্যাৎ প্রতি ১০০ জন SARS আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১০ জন মারা গিয়েছিল ।
CORONAVIRUS আপনি কি জানতে ইচ্ছুক যে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুহার কত ? এটা আপনার অবশ্যই জানা দরকার । করোনা ভাইরাসের মৃত্যুহার হল ৩.৫ % এর থেকেও কম । অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে  ১.৫ জনের থেকেও কম । কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো ? বিশ্বাস না হলেও এটাই সত্যি । গুগলে সার্চ করেো বিষয়টির সত্যতা দেখে নিতে পারেন ।
https://youtu.be/XuRbzIsvifo

মিডিয়া তটটুকুই প্রকাশ করে যতটা তার টি.আর .পি বাড়াতে সাহায্য করে ।

3. চলুন এবার চলে যায় পরের বিষয়ে । নিচে একটি চার্ট দেওয়া হল যেখানে দেখানো হল যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা কতটা ক্ষতিগ্রস্থ ? সব থেকে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নীল রং । সমগ্র অংশের প্রায় ৮১ % যাদের সামান্য সর্দি কাশি হয় সাত থেকে দশ দিনের জন্য তারপর তারা সুস্থ হয়ে ওঠে । এর পরবর্তী অংশ রয়েছে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে সমগ্র অংশের প্রায় ১৪ % । যারা একটু বেশি ক্ষতিগ্রস্থ তবে কেউই মারা যায় নি । এরপরের ভাগটি সবুজ রং দিয়ে চিহ্নিত যা সমগ্র অংশের ৫ % । কেবলমাত্র এই অংশটিই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে । এদের মধ্যে ১.৫ % যেটা আগে বলা হয়েছে তাদের মৃত্যু ঘটেছে । কিন্তু জেনে রাখুন এই ৫ % কারা ? যারা আগে থেকেই অন্য কোন কারনে অসুস্থ । কারন হার্টের সমস্যা তো কারো কিডনির সমস্যা তো কারো ছিল নিউমোনিয়া । যাদের বেশিরভাগটাই হচ্ছে বয়স্ক নাগরিক ।

pie chart for coronavirus effected people
pie chart for coronavirus effected people

৪. করোনা ভাইরাসে শিশুদের ভয়ের কিছু নেই । সমগ্র চীনে করোনা ভাইরাসে ৮০ হাজার মানুষ আক্রান্ত । যার মধ্যে মাত্র ৪১৯ জন শিশু । যাদের কেবলমাত্র ৭ -১০ দিনের সর্দি কাশি হওয়ার পর সেরে যায় । কেউ মারা যায় নি ।

৫.  কিশোর তরুণদের একেবারেই ভয়ের কিছু নেই । এখনও পর্যন্ত একজন কিশোর তরুন আক্রান্ত হয়নি এই ভাইরাসে । আপনি যদি কিশোর তরুন হয়ে থাকেন তাহলে এই কথাটি শুনে নিশ্চয়ই বুকে বল পেয়েছেন ! পাওয়ারই কথা । সাবধান থাকুন , সতর্ক থাকুন । মাস্ক ব্যবহার করুন । আপনি তরুণ হলে আক্রান্ত হবেন না । আর যদি হনও তাহলেও সামান্য সর্দি কাশি হয়েই সেরে যাবে । মারা যাবেন না । তাই নিশ্চিন্তে থাকুন ।

মানুষের শরীরে ভাইরাসের মৃত্যু ঘটবে । কিন্তু মানুষের মনের ভাইরাস কিভাবে মুক্ত হবে ?

৬. এবার যে কথাটি বলবো সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ন কথা । যা কোন মিডিয়া প্রকাশ করছে না , সেটি হল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে করোনা ভাইরাস ছড়াই না । মিডিয়া আপনাকে এটা বলছে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে করোনা ভাইরাস মারা যায় , কিন্তু এটা বলছে না যে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে না ।

 আচ্ছা কি করে ছড়াই এই ভাইরাস ? একটু জেনে নিন । প্রধান মাধ্যম হল ড্রপলেটস । অর্থাৎ হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ দিয়ে যে জলীয় পদার্থ বের হয় তাকেই ড্রপলেটস বলে । করোনা ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হল এই ড্রপলেটস । যখন কোন করোনা আক্রান্ত রোগীর হাঁচি বা কাশি হয় তার নাক মুখ দিয়ে নিসৃত জলীয় পদার্থের সাথে করোনা ভাইরাস বাইরে বেরিয়ে আসে । তারপর সেই জলীয় অংশ যখন অন্য কোন মানুষ স্পর্শ করে বা যেকোনভাবে সংস্পর্শে আসে তাহলে সেই মানুষটির মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করে ।

এখন যদি উষ্ণতা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয় সেক্ষেত্রে হাঁচি কাশির ফলে নিসৃত জলীয় পদার্থ বেরিয়ে আসার পর সেই জলীয় পদার্থ শুকিয়ে যায় । এবং দেখা গেছে যে করোনা ভাইরাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর উষ্ণতায় বেশিক্ষন বাঁচে না ।

ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে মুখে মাস্ক পড়ুন , কিন্তু হলদে সাংবাদিকতা থেকে মুক্তি পেতে চোখ কান খোলা রাখুন !

৭. এবার একটু দেখে নি কোন কোন দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে । চিন , ইরান , ইতালি , কোরিয়া , জাপান । উপরের সব দেশ গুলিতেই এখন শীতকাল চলছে । হ্যা ইরান গরমের দেশ হলেও এখন সেখানে ঠাণ্ডা চলছে । এখন সেখানে উষ্ণতা ১০ – ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি । বিশ্বাস না হলে গুগলে সার্চ করে দেখে নিতে পারেন ।

ডাঃ জাকির আরও একটি খুশির খবর দিয়েছেন মার্চের শেষে বা এপ্রিলের প্রথমে যখন গরম বাড়বে তখন আপনাআপনি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমে যাবে ।

সবশেষে বলব সচেতন থাকুন , সতর্ক থাকুন , পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো মেনে চলুন ।অহেতুক আতঙ্কিত হবেন না । অন্যকেও আতঙ্কিত করবেন না । এই লেখাটি শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে । নিশ্চয়ই তার মনে ভরসা আসবে । বিশ্বাস আসবে । শক্তি পাবেন করোনা ভাইরাসের সাথে মোকাবিলায় ।  

আপনার মতামত জানাতে নীচে কমেন্ট করুন । লেখাটি শেষপর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।

সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ