স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়মগুলি জানুন ।। কিভাবে নিয়োগ হবে ? ।। জানুন সকল সঠিক তথ্য

Spread the love
new rule of wb teacher selection process
new rule of wb teacher selection process

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়মগুলি জানুন ।। কিভাবে নিয়োগ হবে ? ।। জানুন সকল সঠিক তথ্য

রাজ্যসরকার এক নতুন পদক্ষেপ নিলো শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে । রাজ্যে উচ্চপ্রাথমিক , মাধ্যমিক , উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার । শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার থেকে চালু হচ্ছে একটিই অভিন্ন পরীক্ষা । উঠে যাচ্ছে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া ও কাউন্সেলিং পদ্ধতি ।

আরও পড়ুনঃ আপার প্রাইমারী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক হতে কি কি যোগ্যতা লাগবে ।। জানুন বিস্তারিত

গত কয়েকবছরে স্কুল সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত কয়েকশো মামলার ফলে শিক্ষক নিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে । নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে আর দ্রুত নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার শিক্ষক নিয়োগবিধি বদল করল । শিক্ষামন্ত্রী আগেই নিয়োগ পদ্ধতি বদলের কথা বলেছিলেন ।

শিক্ষক নিয়োগের নতুন নিয়োগবিধিতে রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই সিলমোহর দিয়েছে । পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন যেভাবে নিয়োগ করে থাকে এবার থেকে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে সেই একই পদ্ধতিতে ।

আরও পড়ুনঃ ৩৩৩২ শিক্ষক নিয়োগ । এক্ষুনি আবেদন করুন ।

সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়মের বদল হয়েছে ।এবং এই নিয়ম বদলকে কেন্দ্র করে বিস্তর ভুল তথ্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে । তাই এটি আমাদের একটি ঐকান্তিক প্রয়াস সম্পুর্ন সঠিক তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার । এখানে সরকারিভাবে যে   ১০ পাতার একটি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে  তার সম্পুর্ন বিশ্লেষণ করা হল । দেখে নিন SSC এর কোন কোন নিয়মে বদল ঘটলো ।

১. ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষককে পাঁচটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে । নীচে তার লিস্ট দেওয়া হল

২. একজন প্রার্থী একটি অথবা একের বেশি গ্রুপ এর জন্য আবেদন করতে পারেন । তবে তাঁকে আবেদন করতে হবে একটিই ফর্ম । যেখানে তিনি ক্রমানুসারে তার পছন্দ অনুসারে গ্রুপগুলিকে নির্বাচন করতে পারবেন । তবে অবশ্যই তার সেই গ্রুপে আবেদন করার জন্য পর্ষদ নির্দেশিত যোগ্যতা থাকতে হবে । একজন মহিলা ক্রমানুসারে তার পছন্দ অনুসারে বালিকা বিদ্যালয় , কো-এড প্রভৃতি ক্যাটেগরি নির্বাচন করতে পারবেন ।

একজন প্রার্থী তার পছন্দ অনুসারে গ্রুপ ২ প্রথম পছন্দ । গ্রুপ ৩ দ্বিতীয় পছন্দ এবং গ্রুপ ১ তৃতীয় পছন্দ হিসাবে নির্বাচন করেছেন । এটাও ধরা গেল প্রতিটি গ্রুপে ১০ টি করে মোট ৩০ টি শূন্যপদ রয়েছে । এখন দেখা গেল সেই প্রার্থী গ্রুপ ২ এ ১২ নম্বর স্থানে রয়েছেন । গ্রুপ ৩ এ ৮ নম্বর স্থানে রয়েছে । এবং গ্রুপ ১ এ ২ নম্বর স্থানে রয়েছে । তাহলে যেহেতু শূন্যপদ ১০ টি তাই তিনি গ্রুপ ২ র‍্যাঙ্ক করতে পারেন  নি । কিন্তু গ্রুপ ৩ এ ৮ নম্বর স্থানে থাকায় সেই ক্যাটেগরিতেই তিনি চাকরি পাবেন । যদিও গ্রুপ ১ এ তার র‍্যাঙ্ক ২ স্থানে তবুও যেহেতু তার দ্বিতীয় পছন্দ গ্রুপ ৩ ছিল । তাই তিনি গ্রুপ ৩ এই চাকরির জন্য বহাল হবেন । আশা করি বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি ।

৩. নিয়োগ হবে সরাসরি লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে । কোনরকম কাউন্সেলিং বা ইন্টারভিউ থাকবে না । নিয়োগ করবে State Level Teacher Selection Test ( SLTST ) এর মাধ্যমে । তবে সরকারি নিয়ম অনুসারে সংরক্ষিত ক্ষেত্রের প্রার্থীদের জন্য নির্দিস্ট পরিমাণ শূন্যপদ রাখতে হবে ।

৪. স্কুল সার্ভিস কমিশন নির্ধারন করবে State Level Teacher Selection Test ( SLTST ) বা সহকারী শিক্ষক পদের পরীক্ষার জন্য কত ফি দিতে হবে । যদিও SC/ST প্রার্থীদের কোন ফি দিতে হবে না ।

৫. স্কুল সার্ভিস কমিশনের সম্পুর্ন স্বাধীনতা রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন হবে তা নির্ধারণ করার । নীচের ছকে যেভাবে নম্বর বিভাজন করা আছে সেই অনুসারে পরীক্ষা হবে । পরীক্ষা শেষে কমিশন তার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ( নীচের ছকে বিস্তারিত দেওয়া হল ) প্রত্যেক বিষয় অনুসারে যতগুলি শূন্যপদ রয়েছে ততজনের একটি মেরিট লিস্ট তৈরি করবে । সেখানে তাদের প্রত্যেকর প্রাপ্ত নম্বরের উল্লেখ থাকবে । কোন একাডেমীক স্কোর থাকছে না । সম্পুর্ন লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে এই মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হবে ।

new rule of wb teacher selection process
new rule of wb teacher selection process

  • যখন মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হবে তখন এই ২০০ নম্বরের সাথে TET / PT এর ১৫০ নম্বরের যে পরীক্ষা হয়েছিল তার নম্বরকে ১০০ নম্বর ধরে নিয়ে শতাংশের ভিত্তিতে একটি ওয়েটেজ ঠিক করা হবে । এবং সেই অয়েটেজ নম্বরটি ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে যোগ করা হবে ।
  • অর্থাৎ মোট ১৫০ নম্বরের টেট কে ১০০ নম্বর ধরে নিয়ে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেরিট লিস্ট প্রকাশ করা হবে ।
  • এক্ষেত্রে যদি দুই বা ততোধিক প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত নম্বর এক হয়ে যায় সেক্ষেত্রে যার লিখিত পরীক্ষায় নম্বর বেশি থাকবে তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । এরপরেও যদি দুই বা ততোধিক প্রার্থীর নম্বর একই থাকে সেক্ষেত্রে যার বয়স বেশি তিনি অগ্রাধিকার পাবেন ।
  • কমিশন যে প্যানেল তৈরি করবে সেই প্যানেলের বৈধতা একবছর থাকবে । তবে কমিশন মনে করলে এর বৈধতা বাড়াতে পারে ।
  • কমিশন প্যানেল তৈরি করে তা বোর্ডের কাছে পাঠাবে । এরপর বোর্ড যথাযথ ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন , মেডিক্যাল ফিটনেস চেক করার পরই অফার লেটার প্রদান করবে ।
  • যেহেতু যতগুলি শূন্যপদ ঠিক তত সংখ্যক প্রার্থীরই প্যানেল তৈরি হবে । এক্ষেত্রে যদি কেউ জয়েন না করেন তখন যারা পরীক্ষার্থী ছিলেন তাদের মধ্যে থেকে নম্বরের ভিত্তিতে যত সংখ্যক প্রার্থী জয়েন করেননি ততজনের নতুন আর একটি প্যানেল তৈরি করা হবে ।

মেরিট লিস্ট কিভাবে তৈরি হবে ?

কমিশন প্রত্যেকটি পেপারের জন্য একটি কাট অফ মার্কস ঠিক করে দেবে । TET বা PT পরীক্ষায় নির্দিস্ট মারক্স পেলে তবেই পরবর্তী লিখিত পরীক্ষার ( ভাষা এবং বিষয় ) খাতা দেখা হবে । যদিও লিখিত পরীক্ষায় প্রত্যেক প্রার্থী বসতে পারবেন । কিন্তু তার খাতা তখনই দেখা হবে যখন তার TET বা PT তে কমিশন নির্ধারিত কাট অফ মার্কস পাবেন ।

যদি কারো বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার দিন বা তার আগে থেকে TET সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে তিনি সরাসরি লিখিত পরীক্ষায় বসতে পারবেন ( ভাষা এবং বিষয় ) ।

  • STATE LEVEL TEACHER SELECTION TEST ( পাঁচটি গ্রুপের ক্ষেত্রেই ) দেওয়ার জন্য কি যোগ্যতা লাগবে । যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে NCTE যে যোগ্যতা নির্ধারন করে দিয়েছে প্রত্যেক গ্রুপের জন্য সেই যোগ্যতা থাকতে হবে । এক্ষেত্রে যখন বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হবে তখন নিশ্চিতভাবেই যোগ্যতা কি লাগবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে ।
  • বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে । সংরক্ষিত ক্ষেত্রের প্রার্থীরা বয়সের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসারে ছাড় পাবেন ।

আরও পড়ুনঃ সুপ্রীম কোর্ট শিক্ষকদের জন্য এই লোগোটি অনুমোদন দিয়েছে , যেটি তাঁরা ডাক্তার উকিলদের মত গাড়িতে লাগাতে পারবেন ?

marks distribution of new slst recruitment 2020
marks distribution of new slst recruitment 2020

আরও পড়ুনঃ ইন্টারভিউতে কিভাবে সফল হবেন ? উদাহরণ সহ দেখে নিন ।

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী জানিয়েছেন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা হচ্ছে । এর ফলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দ্রুততা এবং স্বচ্ছতা আসবে । শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জে মামলা হচ্ছে সেই মামলা আর হবে না । এবং শিক্ষক শিক্ষিকারা যাতে শিক্ষার মান আরও বাড়াতে পারেন তার জন্য তাদেরকে বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে নিয়োগ করা হবে ।

বেশকয়েকবছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাটা পড়েছে । মামলার উপর মামলার হয়েছে । যা আগামী ভবিষ্যতেও কিভাবে সমাধান হবে তার কোনও সদুত্তর নেই । এখন দেখার বিষয় শিক্ষাদপ্তরের এই উদ্যোগের ফলে কি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে ? যদিও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে আপারের জটিলতা না মিটলে নতুন নিয়োগ সম্ভব নয় । আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না । শেষপর্যন্ত লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।

এখানে প্রধান প্রধান বিষয়গুলিকে উল্লেখ করা হল । যদি এর বাইরেও কোন প্রশ্ন আপনার মনে থেকে থাকে তাহলে নির্ধিদ্বায় কমেন্ট করুন । লেখাটি শেয়ার করতে ভুলবেন না ।

সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী ওয়েবসাইট – CLICK HERE

2 comments

    • Subrata Roy on March 4, 2020 at 1:10 pm

    বিষয়ের প্রশ্ন কি MCQ টাইপের হবে?
    যারা UPPER PRIMARY তে TET কোয়ালিফাই করে আছে, তাদের ক্ষেত্রে TET কি আবার দিতে হবে?

    1. বিষয়ের প্রশ্ন কি ধরনের হবে সে ব্যাপারে কোন স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই । তবে MCQ হওয়ার সম্ভাবনা । TET সার্টিফিকেট থাকলে দিতে হবে না ।

Comments have been disabled.